Aalo Scholarship 2026: পশ্চিমবঙ্গের একাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের জন্য সুযোগ, জেনে নিন আবেদনের নিয়ম

পশ্চিমবঙ্গের বহু মেধাবী ছাত্রছাত্রী মাধ্যমিক পাস করার পর আর্থিক কারণে উচ্চমাধ্যমিকের পড়া চালিয়ে যেতে পারেন না। ঠিক সেই শিক্ষার্থীদের জন্যই ‘আলো চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’ চালু করেছে ‘আলো স্কলারশিপ ২০২৬’। এটি একটি বেসরকারি উদ্যোগ, যার লক্ষ্য দরিদ্র কিন্তু মেধাবী পড়ুয়াদের একাদশ শ্রেণিতে পড়তে আর্থিক সহায়তা দেওয়া। এই বৃত্তি যেন আপনার জীবনের অন্ধকারে আলোর দিশারি হয়—তাই এখনই জেনে নিন বিস্তারিত।

আলো স্কলারশিপ ২০২৬

এটি শুধু টাকার বৃত্তি নয়, বরং একটি সুযোগ। পশ্চিমবঙ্গের স্বীকৃত স্কুলে একাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া সেই সব ছাত্রছাত্রী যাঁদের পরিবারের বার্ষিক আয় খুবই কম বা যাঁরা বিপিএল তালিকাভুক্ত, তাঁদের জন্য এই বৃত্তি। প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়, যাতে করে বই, খাতা বা স্কুল ফি-র জন্য আর টাকার অভাবে পড়তে না হয়।

Aalo Scholarship 2026

কারা আবেদন করতে পারবেন? (যোগ্যতা)

আবেদনের আগে নিজেকে নিচের শর্তে যাচাই করে নিন:

  • আবাসিক যোগ্যতা: আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।

  • শিক্ষাগত যোগ্যতা: মাধ্যমিক (১০ম শ্রেণি) বা সমতুল্য পরীক্ষায় ন্যূনতম ৭০% নম্বর পেতে হবে।

  • বর্তমান শ্রেণি: আবেদনের সময় প্রার্থীকে পশ্চিমবঙ্গের কোনো স্বীকৃত স্কুলে একাদশ শ্রেণিতে (সায়েন্স, কমার্স বা আর্টস যে কোনো শাখায়) পড়তে হবে।

  • আর্থিক যোগ্যতা: পরিবারের বার্ষিক আয় এত কম হতে হবে যে সরকারি বিপিএল তালিকায় নাম থাকে অথবা স্থানীয় পঞ্চায়েত/মিউনিসিপ্যালিটি থেকে জারিকৃত আয় শংসাপত্র অনুযায়ী আয় ন্যূনতম সীমার নিচে।

কত টাকা পাওয়া যাবে? (বৃত্তির পরিমাণ)

আলো স্কলারশিপের আওতায় নির্বাচিত প্রতিটি শিক্ষার্থীকে মাসিক ৫০০ টাকা করে দেওয়া হয়। অর্থাৎ, এক শিক্ষাবর্ষে মোট ৬,০০০ টাকা পাবেন। এই টাকা দুই কিস্তিতেও দেওয়া হতে পারে। এটি যদিও বড় অঙ্কের নয়, তবুও নিয়মিত এই সাহায্য একজন পড়ুয়ার মাসিক খরচ যেমন ভ্রমণ, টিফিন, স্টেশনারি ইত্যাদি মেটাতে অনেকটাই কাজে দেয়।

আবেদনের জন্য জরুরি নথিপত্র (ডকুমেন্ট চেকলিস্ট)

অনলাইনে আবেদন শুরুর আগে নিচের ডকুমেন্টগুলো স্ক্যান করে (জেপিজি বা পিডিএফ ফরম্যাটে) রেডি রাখুন:

  • ১. আধার কার্ড (আবেদনকারীর ও অভিভাবকের) – জেরক্স কপি।

  • ২. মাধ্যমিক পরীক্ষার মার্কশিট ও সার্টিফিকেট।

  • ৩. বর্তমান স্কুলের আইডি কার্ড ও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির রশিদ।

  • ৪. পরিবারের বার্ষিক আয়ের শংসাপত্র (ইনকাম সার্টিফিকেট) অথবা বিপিএল সার্টিফিকেট (পঞ্চায়েত/ব্লক অফিস থেকে ইস্যুকৃত)।

  • ৫. প্রার্থীর নিজের নামে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের পাসবুকের প্রথম পৃষ্ঠার কপি (যাতে অ্যাকাউন্ট নম্বর ও আইএফএসসি কোড স্পষ্ট দেখা যায়)।

  • ৬. সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের ছবি (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে)।

  • ৭. অভিভাবকের স্বাক্ষরযুক্ত একটি ঘোষণাপত্র (আবেদন ফর্মের সঙ্গেই দেওয়া থাকে)।

আবেদন পদ্ধতি ২০২৬ – ধাপে ধাপে নির্দেশিকা

এই বৃত্তির আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক। নিচের ধাপগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করুন:

ধাপ ১: অফিসিয়াল পোর্টালে যান
আপনার ব্রাউজারে ট্রাস্টের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের ঠিকানা টাইপ করুন। সাইটে ঢুকে হোমপেজে ‘আলো স্কলারশিপ ২০২৬’ বা ‘Apply Now’ অপশনটি খুঁজে নিন।

ধাপ ২: নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) করুন
‘নতুন আবেদন’ বা ‘রেজিস্ট্রেশন’ বাটনে ক্লিক করে আপনার বৈধ মোবাইল নম্বর ও ইমেল আইডি দিন। একটি ওটিপি আসবে, তা দিয়ে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করুন। আপনার ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড তৈরি করে নিন।

ধাপ ৩: আবেদন ফর্ম পূরণ করুন
লগইন করে আবেদন ফর্মটি খুলুন। সেখানে নিচের তথ্যগুলো খুব সাবধানে দিন:

  • ব্যক্তিগত তথ্য (নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা, জাতি প্রভৃতি)

  • মাধ্যমিক পরীক্ষার বিবরণ (রোল নম্বর, বোর্ড, বছর, প্রাপ্ত নম্বর)

  • বর্তমান স্কুল ও একাদশ শ্রেণির শাখার নাম

  • পারিবারিক আয়ের বিবরণ (সঠিকভাবে ও প্রমাণসাপেক্ষে)
    একবার ফর্ম জমা দেওয়ার পর পরিবর্তন করা যায় না, তাই ডাবল চেক করুন।

ধাপ ৪: নথিপত্র আপলোড করুন
পূর্বে রেডি করে রাখা সব ডকুমেন্ট সঠিক জায়গায় আপলোড করুন। মনে রাখবেন, প্রতিটি ফাইলের সাইজ প্রায় ৫০০ কেবি থেকে ১ এমবি-র মধ্যে রাখার চেষ্টা করুন। বেশি বড় ফাইল আপলোড হবে না।

ধাপ ৫: চূড়ান্ত জমা ও কনফার্মেশন নিন
সব ঠিক থাকলে ‘সাবমিট’ বাটনে ক্লিক করুন। সাবমিট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি কনফার্মেশন মেসেজ স্ক্রিনে আসবে। সেই পেজটি প্রিন্ট করে নিন বা পিডিএফ সেভ করে রাখুন। পাশাপাশি আপনার রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে একটি এসএমএস এবং ইমেলে কনফার্মেশন লিংক আসবে।

গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও সময়সীমা (অনুমানিক)

  • আবেদন শুরুর তারিখ: জানুয়ারি ২০২৬ (প্রথম সপ্তাহ থেকে)

  • আবেদনের শেষ তারিখ: মার্চ ২০২৬ (৩১ মার্চ পর্যন্ত) – তবে পরে বাড়তেও পারে।

  • ফলাফল প্রকাশ: মে-জুন ২০২৬

  • প্রথম কিস্তির টাকা জমা: জুলাই ২০২৬ (আনুমানিক)

সতর্কীকরণ ও পরামর্শ

  • কোনো টাকা দেবেন না: আলো স্কলারশিপে আবেদন করতে কোনো ফি নেই। কেউ টাকা চাইলে বুঝবেন এটি জালিয়াতি।

  • একাধিক আবেদন নয়: একই শিক্ষার্থী একাধিকবার আবেদন করলে বাতিল হবে।

  • ভুয়া তথ্য নয়: আয় বা নম্বর নিয়ে কোনো মিথ্যা তথ্য দিলে আবেদন রদ এবং ভবিষ্যতের জন্য নিষিদ্ধ করা হতে পারে।

  • নিয়মিত পোর্টাল চেক করুন: ফলাফল বা কোনো আপডেটের জন্য অফিসিয়াল ওয়েবসাইট নিয়মিত দেখুন।

আলো স্কলারশিপ কেন অনন্য?

অন্যান্য বৃত্তি যেমন AICTE প্রগতি স্কলারশিপ ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়াদের জন্য, সেখানে আলো স্কলারশিপ একাদশ শ্রেণির সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের জন্য তৈরি। এখানে জটিল কোনো পরীক্ষা নেই, শুধু যোগ্যতা ও আর্থিক সীমার ভিত্তিতে বৃত্তি দেওয়া হয়। সহজ আবেদন প্রক্রিয়া এবং অল্প সময়ে টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা এটিকে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের কাছে খুবই জনপ্রিয় করেছে।

উপসংহার:
পড়াশোনার স্বপ্ন দেখাটা একটুও কঠিন নয়, কঠিন হলো সেই স্বপ্নকে টিকিয়ে রাখা। আলো স্কলারশিপ ২০২৬ যেন আপনার স্বপ্নের জ্বালানি হয়ে কাজ করে। তাই আজই সব নথিপত্র গুছিয়ে ফেলুন, সময়মতো আবেদন করুন এবং নিজের ভবিষ্যৎ নিজেই উজ্জ্বল করে তুলুন। বাংলার প্রতিটি মেধাবী সন্তানের যেন অন্ধকারে না হারায়—এই কামনাই আলো স্কলারশিপের মূল ভাবনা।

প্রয়োজনীয় নির্দেশনা:

  • আবেদনের সরাসরি লিংক এখানে দেওয়া হয়নি। অনলাইনে ‘আলো স্কলারশিপ অফিসিয়াল পোর্টাল’ সার্চ করে সহজেই পেয়ে যাবেন।

  • যেকোনো সমস্যায় ট্রাস্টের হেল্পলাইন নম্বর বা ইমেল ঠিকানা তাদের ওয়েবসাইটের ‘যোগাযোগ’ পাতায় পাওয়া যাবে।